Tuesday, August 9, 2022
spot_img
Homeরাজনীতিঈদের পর ঘর গোছাবে আওয়ামী লীগ

ঈদের পর ঘর গোছাবে আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্কঃ দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে তৃণমূল গোছানোর জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে এক ডজন জেলা ও দুই ডজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢেলে সাজানো হচ্ছে ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগকে। দলটির বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ডিসেম্বর সামনে রেখে তৃণমূলকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। জেলা-উপজেলায় সম্মেলন চলছে। ইতোমধ্যে খুলনা বিভাগের চার জেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ মে মাগুরা, ১৫ মে চুয়াডাঙ্গা, ১৬ মে মেহেরপুর ও ১৭ মে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্রমতে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ডিসেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ ৪০ জেলার সম্মেলন শেষ করতে চান দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ১২ মে ফরিদপুর ও ১৯ মে গাজীপুর জেলার সম্মেলন হবে। এ ছাড়া ১৫ ঢাকার দোহার, ১৬ মে নরসিংদীর পলাশ, ২৫ মে কিশোরগঞ্জ সদর, ২৬ মে হোসেনপুর, ৩০ মে অষ্টগ্রাম, ৩১ মে ইটনা এবং ২ জুন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে চায় আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে জনগণের মন জয় করে টানা চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে চায় স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটি। এজন্য দলের সব স্তরের কমিটিতে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, তৃণমূলে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে দলের প্রেসিডিয়াম সভায় তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ২১ মে পাবনার আমিনপুর থানা, ২২ মে সিরাজগঞ্জ সদর, ২৩ মে বেলকুচি, ২৪ মে জয়পুরহাট সদর, ২৮ মে নাটোরের লালপুর, ২৯ মে বাগাতিপাড়া ও ৩০ মে গুরুদাসপুর উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দলের সম্মেলন শেষ হলে আমরা সংসদীয় আসনভিত্তিক কর্মিসভা, বর্ধিত সভা করব। নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তুলে আবারও যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে পারি সে পরিবেশ তৈরি করব।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, মে ও জুনের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই, ধর্মপাশা, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদর, হবিগঞ্জ পৌরসভা, ছাতক ও দোহারাবাজার উপজেলার সম্মেলন শেষ করা হবে।

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, মে ও জুনের মধ্যে পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা ও বরিশাল জেলার সম্মেলন হবে। এ ছাড়া কয়েকটি উপজেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢেলে সাজানো হচ্ছে ঢাকা মহানগরীকে: ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। সে অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদি বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২৯ নভেম্বর শেষ হবে। জাতীয় সম্মেলনের আগেই ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করা হবে। ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে গত বছর ইউনিট কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঢাকা মহানগরী উত্তর আওয়ামী লীগ ৮০২টি ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছে। এখন ওয়ার্ড সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে প্রায় ৬০০ ইউনিট কমিটি গঠন করলেও দক্ষিণের কমিটি গঠনে প্রভাব খাটিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি, নব্য লীগারদের শীর্ষ পদে বসানোর অভিযোগ উঠছে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগ নাকচ করে বলেন, আমাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা কারও নেই। নেত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। সে দায়িত্ব আমানত হিসেবে পালন করছি। জানা গেছে, শ্যামপুর, কদমতলী, ডেমরায় ইউনিট কমিটি গঠন করতে দীর্ঘদিনের পুরনো আওয়ামী লীগ নেতাদের বাদ দিয়ে ভুঁইফোঁড় সংগঠনে নেতৃত্বদানকারীদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পূর্ব কদমতলী থানার একটি ইউনিট কমিটি গঠনে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বাদ দিয়ে ভুঁইফোঁড় সংগঠন ‘তরুণ লীগের’ এক নেতাকে ইউনিট সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে মহানগরী আওয়ামী লীগে বেহাল পরিস্থিতি। দক্ষিণে ‘মাইম্যান’ কমিটিতে বসাতে ইউনিট সম্মেলন শেষ হচ্ছে না। এ ছাড়া দুই নেতার আলাদা বলয় গড়ে ওঠায় দক্ষিণের রাজনীতিও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ইউনিট কমিটি গঠনের নয়ছয়ের অভিযোগও জমা পড়েছে দলের হাইকমান্ডের কাছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ উপেক্ষিত : ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সূত্র জানান, দুই শীর্ষ নেতার দ্বন্দ্বের কারণে ভেঙে পড়েছে সাংগঠনিক চেন অব কমান্ড। অতিসম্প্রতি শ্যামপুর থানার ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট কমিটি গঠনের জন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাহমুদুল হাসান রাসেলের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন শ্যামপুর থানা সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান হাবু। ওই বৈঠকে হাবুর ছেলেকে রাখার ব্যাপারে আপত্তি জানান ৫১ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন। এর জেরে হাবু শারীরিকভাবে তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এ নিয়ে হাবুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয় মহানগরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে।
নিউজ রাজশাহী ২৪.

 

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর

জনপ্রিয় খবর

Recent Comments