8.9 C
New York
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪
spot_img

মোহনপুরে ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ করলেন এসিল্যান্ড

নিউজ রাজশাহী ডেস্কঃ ‘মুজিব শতবর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’। ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ভূমিহীন ও গৃহহীনদেরকে দেওয়া হচ্ছে বাড়ি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সারা বিশ্ব। মোহনপুর উপজেলায় ভূমিহীনদের জন্য শতভাগ বাড়ি নির্মাণের আওতায় থাকলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মহৎ উদ্যোগকে ম্লান করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রিয়াংকা দাশ এর বিরুদ্ধে।

বয়োবৃদ্ধ সিনিয়র সিটিজেনের ঘরের টিন খুলে নেওয়ায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বৃদ্ধ কাজেম উদ্দিন শেখ (৮২) ও তার স্ত্রী নুরেছা বেগম (৬০)। একজন সরকারি কর্মকর্তার অমানবিক একাজের নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সুশীল সমাজ।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে জানা গেছে, উপজেলার ধূরইল ইউনিয়নের পোল্লাকুড়ি গ্রামে ১২৪ নম্বর জেএল, ১নম্বর খতিয়ান, দাগ নম্বর ২৮৮, শ্রেণী ডহর, পরিমান দেড় শতক, জমিতে বাড়ি করে গত ৩০ বছর ধরে বাস করছেন কাজেম দম্পতি। তাদের দখলীয় সরকারি জমিতে কুনজর পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী জালাল উদ্দিন, ফুকু মাহবুল, লালু, মাসুদ, জাহাঙ্গীর আলম, মনসুর গংদের। সিনিয়র সিটিজেন এর দখলে থাকা একমাত্র অবলম্বন খাস জমিটুকু দখলে নিতে চায় তারা। একারণে তাদের উচ্ছেদ করতে কুট কৌশলের আশ্রয় নিয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর আবেদন করেন জালাল উদ্দিন গংরা। আবেদন পেয়ে এসিল্যান্ড হরিহরপুর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শামিমা আকতারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিলে তিনি অভিযোগকারীদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রিয়াংকা দাশ শুধুমাত্র একবার উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করেন।

এরই মাঝে মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় হটাৎ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তিনি মনগড়া একক সিদ্ধান্তে ওই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান করেন।

এসময় তিনি থানা পুলিশ ও মিস্ত্রিকে সাথে নিয়ে অসহায় বয়োবৃদ্ধের ২টি ঘরের টিনের সম্পূর্ণ চালা ও বৈদুতিক মিটার খুলে নেন।

অমানবিক এঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এসিল্যান্ড প্রিয়াংকা দাশ এরই মধ্যে ৭জন মিস্ত্রি মিলে ২টি ঘরের ছাউনি টিন ও বিদ্যুত অফিসের লোক খুলে নিয়েছেন বৈদ্যুতিক মিটার।

এঘটনার বিস্তারিত বিবরণে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার জানান, তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল বাড়ির টিনের চালা খুলে নেওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বাধ্য হয়ে রাত দিন কাটাচ্ছেন তারা। সারারাত খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর ফলে শীতে তার স্বামী কাজেম এর শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেছে। তাছাড়া ওই জায়গাটি ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যেখানে তাঁরা হাঁস-মুরগি পালন ও সবজি চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর স্বামী বৃদ্ধ হওয়ার কারণে কোন কাজকর্ম করতে পারেনা। তারা এখন কোথায় যাবেন? এমন প্রশ্নে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন নুরেছা বেগম। তারা ভূমিহীন সরকারি সুবিধা বলতে বয়স্কভাতা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল পান।

এবিষয়ে ধূরইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, মানবতা আজ কোথায়? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা গৃহীনদেরকে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন। আর অন্যদিকে খাস জমিতে প্রায় ৪০ বছর যাবত বসবাসকারী অসহায় ভূমিহীন ফকির সম্প্রদায়ের দুইজন বৃদ্ধের একমাত্র মাথা গোজার ঠাঁই টুকু উচ্ছেদ করলেন এসিল্যান্ড।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পেরে মাননীয় এমপি আয়েন উদ্দিন ওই পরিবারকে নতুন বাড়ি করে দিবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তিনি শীঘ্রই ওই এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যাটির সমাধান করে দিবেন।

এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রিয়াংকা দাশ বলেন, সকল নিয়ম কানুন মেনে ওই পরিবারকে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তারা নির্দেশ অমান্য করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা ফাতেমা তুজ জোহ্ররা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রিয়াংকা দাশ ও হরিহরপুর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শামিমা আকতারকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এসময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিষয়টি আমি আগে জানলে এমনটি হতোনা। আমাদের কারণে কাহারো ক্ষতি হোক তা আমি চাইনা। ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ২দিনের মধ্যে ওই পরিবারের সমস্যা সমাধান করা হবে। উপজেলা প্রশাসন অসহায় পরিবারের পাশে থেকে তাদের সাহায্য করবে।

spot_imgspot_img
রাজশাহী বিভাগ

সর্বশেষ খবর

- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

error: Content is protected !!

Discover more from News Rajshahi 24

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading