Tuesday, February 7, 2023

তানোরে রাস্তা নষ্টের হিড়িক জনমনে ক্ষোভ

তানোর প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে চলছে সরকারি পাকা-কাঁচা রাস্তা নষ্টের হিড়িক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামে গ্রামে উঁচু জমি নিচু, কৃষি জমি ধংব্স করে পুকুর খনন, পুনঃখনন  ও পুনঃখননের নামে চলছে মাটি বানিজ্য।  প্রশাসনের কর্মকর্তা,রাজনৈতিক পরিচয়ের হোমড়াচোমরা, নেতা, দালাল ও স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে-দিবালোকে এসব অপকর্ম করছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, কঠোর আইন আছে কৃষি জমির মাটি কাটা যাবে না। পুকুর খননের মাটি পুকুর পাড়ে রাখতে হবে। এলজিইডির গ্রামীন সড়কের ক্ষতি হয় সে জন্য মাটি নিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গ করলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও জেলের বিধান রয়েছে। কিন্ত এসব আইন আর বিধি -নিষেধ কেবল কাগজে, বাস্তবে নেই। এদিকে রাস্তা রক্ষার জন্য ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালের বিল্ডিং কনষ্ট্রাকশন এ্যক্টের ৩ ধারা মতে একটি পরিপত্র জারী করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের (উন্নয়ন-২) উপ-সচিব জেসমিন পারভিন। ওই আইনের দন্ডবিধির ১৮৬০ এর ধারা ৪৩১ মোতাবেক সরকারী রাস্তার ক্ষতি সাধন ফৌজদারী দন্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে ৫ বছরের কারাদন্ড, জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে সরকারী রাস্তার ক্ষতি সাধন হয় এমন কাজ করা যাবে না। কিন্ত্ত তানোরে আইন বাস্তবায়নে রহস্যজনক কারণে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে।
জানা গেছে, তানোরে শীত মৌসুম আসলেই মাটি কাটার হিড়িক পড়ে যায়। গ্রামে গ্রামে এখন মাটি বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। জনশ্রুতি আছে, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক হোমড়াচোমরাদের ম্যানেজ করেই মাটি সিন্ডিকেটের এই মহোৎসব চলছে। তবে প্রতিকার নেই। বরং ধুমছে চলছে মাটি কেনাবেচার রমরমা বানিজ্য। ফলে  উপজেলায় এলজিইডির গ্রামীন রাস্তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাকা রাস্তায় মাটি পড়ে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
সরজমিন তথ্য নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হাতিশাইল মাঠে কেশরহাটের গিয়াস আলী, কামারগাঁ ইউপির দমদমা মধ্যপাড়াগ্রামে আহম্মদ, কামারগাঁ সেন্ট্রাল কলেজের পিছনে রানা, পাড়িশো গ্রামে ভারশোঁ ইউপির ভেকুঁ দালাল আলতাব আলী, নারায়নপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক রেজাউল ইসলাম, পাড়িশো মাঠে কামারগাঁর ভেকুঁ দালাল জামাল উদ্দিন, চাঁন্দুড়িয়া ইউপির মেসের আলী, পাঁচন্দর ইউপির নাজমুল প্রমুখ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভেকুঁ  দালাল বলেন, পয়সা খরচ করে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছি, মাটি বিক্রি না করলে তো তাদের লোকসান হবে। তিনি বলেন, রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে সত্যি, কিন্ত্ত এজন্যই টাকা দেয়া হচ্ছে,রাস্তা নষ্ট হলে সরকার মেরামত করবেন।
এবিষয়ে  উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, তানোরে মাটি বাণিজ্যে নিয়ে যা হচ্ছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন এসব মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অধিকাংশ রাস্তা নস্ট হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখন থেকে রাস্তার ক্ষতিপূরণ আদায়ে মামলা করা হবে।

রাজশাহী বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর

- Advertisment -

সর্বাধিক জনপ্রিয়