22.3 C
New York
মঙ্গলবার, মে ২১, ২০২৪
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

নানা কারণেই ‘লাল তালিকায়’ পড়ে যাচ্ছে আ.লীগের ১০০ এমপি: আসছে নতুন মুখ

নিউজ রাজশাহী ডেস্ক: নির্বাচনী বছর। আর তাই ভোট, ভোটার, জনগণ, ব্যালট কিংবা ইভিএম- রাজনীতির মুখর আলোচনায় চিরকালীন শব্দগুলো যেন ফিরে ফিরে আসতে শুরু করেছে। এমনই আবহে বড় দলগুলোর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে নানা মাত্রায়। এদিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের ভেতরে-বাইরে ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানামুখী তৎপরতা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো।

প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের উপযোগী পূর্বপ্রস্তুতির অনেক লক্ষণই স্পষ্ট হয়ে উঠছে দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য এবং সাংগঠনিক তৎপরতা থেকে। এরই মধ্যে আভাস মিলছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকের ভাগ্যেই আর মনোনয়নের শিকে ঝুলছে না। নানা কারণেই ‘লাল তালিকায়’ পড়ে যাচ্ছে বর্তমান এমপিদের বড় একটি অংশ, যার মধ্যে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। যার মধ্যে একজন মর্যাদাপূর্ণ একটি আসনের এমপি। তালিকায় মোট সংখ্যাটা পুরো একশ না হলেও প্রায় কাছাকাছি। দলীয় ও সরকারের একাধিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

পরিপ্রেক্ষিত: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জিং-এমন বার্তা দিয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদের সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রত্যেকেরই কর্মকাণ্ড এবং অবস্থান নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও দলীয় এমপিদের সতর্ক করেছেন তিনি। বলেছেন- মুখ দেখে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। দলে এবং এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা আছে, শুধু তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি দলীয় মনোনয়নে অনেক পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু কিছু এমপির বিষয়ে বিতর্কিত ও দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার তথ্য-উপাত্ত হাতে নিয়েই দলীয় প্রধান এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দলের সাংগঠনিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে দলীয় এমপিদের বিষয়ে তথ্য তুলে আনেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান এমপি ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে নানা মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক জরিপের কাজও চলমান। এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইতঃপূর্বে করা কয়েকটি জরিপে ধারণা মিলেছে অনেকেই এবার মনোনয়ন নিয়ে ঝুঁকির তালিকায় পড়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দল ও সরকারকে বিব্রত করার মতো বিতর্ক, নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে দূরত্ব এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে কেন্দ্রের কাছে ভাবমূর্তি ‘দুর্বল’ হয়ে পড়েছে অনেকেরই। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে বয়স ও অসুস্থতাজনিত কারণও সামনে চলে আসছে। এমন নানা কারণে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন-ঝুঁকিতে থাকা এমপিদের একটি তালিকা গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে এসেছে।

সূত্রমতে, দপ্তরসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য, রিপোর্ট এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ তালিকা করা হয়েছে। বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে কথা বলা হয়েছে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চার দশকের বেশি সময় ধরে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসা শেখ হাসিনার কাছে সবার (দলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য) আমলনামা রয়েছে। কোন নেতা কবে কখন কোথায় কী করছেন, দলীয় সংসদ সদস্যদের কার কী ভূমিকা সব তার নখদর্পণে। বিশেষ করে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই তিনি এমপিদের বিষয়ে একাধিক মাধ্যম থেকে তথ্য নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের দেওয়া সাংগঠনিক রিপোর্টও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। তথ্য সংগ্রহ ও তা যাচাইয়ের কাজে সভাপতির নিজস্ব কিছু প্রক্রিয়াও সক্রিয় রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেও এসব কাজ করিয়ে থাকেন শেখ হাসিনা। অতীতের নির্বাচনগুলোর মতো এবারও প্রতিটি আসনে একাধিক দলীয় প্রার্থীর ওপর জরিপ চালানো হচ্ছে। সেসব জরিপে বর্তমান এমপি বা সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে একটা ক্রমবিন্যাস করে ধারণা দেওয়া থাকে। যার ওপর ভিত্তি করে ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। চলতি বছরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের শুরুতেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হবে সেটা ধরে নিয়েই প্রায় এক বছর আগে থেকেই প্রার্থীদের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলোর শুরু হওয়া আন্দোলন ও দেশি-বিদেশি মহলের বিবিধ তৎপরতা দেখা দেওয়ার পর দলীয় প্রার্থীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ আরও বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মতে, ২০০৮ সালের মতোই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে- এমনটা ধরে নিয়ে দলকে সেই লক্ষ্যে প্রস্তুত করতে দ্রুত সারা দেশে সম্মেলনের কাজ শুরু ও শেষ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষমাও করা হয়েছে একই উদ্দেশ্য মাথায় রেখে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতা ও মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, নেত্রী (শেখ হাসিনা) গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জরিপ চালানোর বিষয়টি জানিয়েছেন। সবার আমলনামা তার কাছে থাকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। এর চার দিন পর গত ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় সংসদ সদস্যদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন তিনি বলেন, যারা নৌকা নিয়ে এমপি হয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার পরাজয়ের পেছনে কাজ করেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্ধন দিয়েছেন আগামীতে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, কোন উপজেলায় কত ভোট পেয়েছেন, আসনওয়ারি নৌকার প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তার একটি প্রতিবেদন দলীয় প্রধানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ৫৯টি জেলার তথ্য ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের দেওয়া রিপোর্টেও কোন নির্বাচনে কোন এমপির কী ধরনের ভূমিকা ছিল, তার চিত্রও বিভিন্ন সময় দলীয় সভাপতির কাছে দিয়েছেন বলে জানান সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী গত ৪ জানুয়ারি সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের কেস টু কেস মূল্যায়ন করা হবে। নেত্রীর মহানুভবতা যে উনি সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। উনাকে আমাদের একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তারপরও উনি গণতন্ত্রমনা বলেই সবাইকে নিয়েই সিদ্ধান্ত নেন। যাবতীয় অভিযোগ কেস টু কেস আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ও মনোনয়ন বোর্ডের অন্যতম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সভাপতি এরই মধ্য কিছু কথা বলেছেন। দলীয় ও নিজস্ব সোর্স থেকে তিনি প্রত্যেক এমপির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জরিপের মধ্য দিয়ে দুইটা জিনিসই মূলত দেখা হচ্ছে। একটা হচ্ছে এলাকায় কার অবস্থান কেমন। যারা ভালো, এলাকায় জনপ্রিয়তা আছে, তারা থাকবেন। আর কিছু কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে যাদের রিপোর্ট ভালো আসছে না, তারা পরিবর্তনের খাতায় চলে যাবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের আরেক সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন সাংবাদিকদের বলেন, যারা দলের জন্য কাজ করে না, যারা গর্হিত কাজ করে, তৃণমূলের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখে না, ঢাকায় বসে থাকে, তাদের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মনোনয়নের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে প্রার্থীদের কর্মকাণ্ডের ওপর। কারও যদি কর্মকাণ্ড ভালো না থাকে, তাহলে দ্বিতীয় আছেন, তৃতীয় জন আছেন- প্রত্যেকের ত্যাগ ও দলীয় কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে অংশ নিয়েছে। এবারও একইভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই হিসেবে জাতীয় পার্টি ও ১৪-দলীয় জোটের শরিকদের জন্য কয়েকটি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে এবারও। গত নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটকে নিয়ে ২৭২টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৫৮টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল। সেই হিসেবে ৩০০ আসনে এবারও প্রার্থী দেবে না আওয়ামী লীগ। তবে ৩০০ আসনেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল থেকে আসা নানা অভিযোগ ও বিভিন্ন সময় দলীয়ভাবে দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান এমপিদের মধ্যে অনেকেই এবার মনোনয়ন না পাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। সংখ্যাটা ১০০ জনের কাছাকাছি হয়ে যেতে পারে।

লাল তালিকা : পঞ্চগড়-১-এর মাজহারুল হক প্রধান; এলাকা থেকে নেতিবাচক তথ্য জমা পড়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের অভিযোগ থাকায় নতুন প্রার্থী দেওয়া হতে পারে।

নীলফামারী-১-এর আফতাব উদ্দিন সরকার, কুড়িগ্রাম-১-এর আসলাম হোসেন সওদাগর।

রাজশাহী-১ আসনের ফারুক চৌধুরী স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এই অঞ্চলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়েছেন। রাজশাহী-৩-এর আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব ও এলাকায় দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী-৫-এর মনসুর রহমানের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। দলের হাইকমান্ড তার ওপর ক্ষুব্ধ। 

নাটোর-১-এ শহিদুল ইসলাম বকুল ও নাটোর-২-এ শফিকুল ইসলাম শিমুল দুই এমপির বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনীতিতে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির জন্য এই দুজনকে দায়ী করা হয়। জেলা কমিটির পদ থেকে এ কারণে শিমুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ডা. হাবিব এ মিল্লাত মুন্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলাকার রাজনীতিতে গ্রুপিং সৃষ্টির। এমনকি এলাকায় নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের বলি হয়েছেন কয়েকজন নেতাকর্মী। এ কারণে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ছিলেন হাবিব এ মিল্লাত। একই অবস্থা বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের জেরে এখানেও হতাহত হয়েছেন কয়েকজন নেতাকর্মী। এ কারণে দলীয় সব পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি এখন পুরোপুরি কোণঠাসা।

জামালপুর-৪ আসনের এমপি ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এলাকায় কোণঠাসা হয়েছেন ভিন্ন কারণে। এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে অশ্লীল ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ও রাজনৈতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে প্রতিমন্ত্রিত্ব ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের পদ হারান তিনি।

টাঙ্গাইল-৪ আসনের এমপি হাছান ইমাম খাঁন আগামীতে বাদ পড়াদের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অপকর্মের পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতার জালিয়াতির মামলা চলছে। পটুয়াখালী-৩ আসনের এমপি এসএম শাহজাদা সাবেক সিইসি একেএম নুরুল হুদার ভাগনে। গত নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিজয়ী হন। কিন্তু এলাকার মানুষের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা কম। তার কারণে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি বেড়েছে। বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মুহিব। পর্যটন এলাকা কুয়াকাটায় সব বিষয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের কারণে একাদশ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি মাহবুবুর রহমান তালুকদার। একই রাস্তায় হেঁটে ঝুঁকিতে পড়েছেন মুহিবুর রহমানও।

যশোর-১-এর শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ আসনের মো. নাসির উদ্দিন ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাতক্ষীরা-৩ আসনের আ ফ ম রুহুল হক ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের এসএম জগলুল হায়দারও মনোনয়ন-ঝুঁকিতে আছেন। রুহুল হকের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়া এবং জগলুল হায়দারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে।

ভোলা-৪ আসনের এমপি আবদুল্লা আল ইসলাম জ্যাকব রয়েছেন মনোনয়ন-ঝুঁকিতে। ভোলায় নিজের নামে জ্যাকব টাওয়ার করাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দলের হাইকমান্ড তার ওপর ক্ষুব্ধ। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদারের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-১-এর মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এলাকার বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, দখল-দূষণ সবকিছুর নেতৃত্বেই তিনি। এসব অভিযোগ রয়েছে হাইকমান্ডের কাছে।

হবিগঞ্জ-৩ আসনের আবু জাহির এলাকায় আছেন শুধু পোস্টার-ব্যানার আর নামফলকে। দলীয় নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে যথাযথ মূল্যায়ন পান না। জনসম্পৃক্ততাও কম। হবিগঞ্জ-১ আসনের গাজী মো. শাহনেওয়াজকে এলাকায় নিজ দলের একাধিক শক্ত প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে। তিনিও মনোনয়ন-ঝুঁকিতে রয়েছেন।

রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি জিল্লুল হাকিমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব অনেক।

ঝালকাঠি-১ বিএইচ হারুন, দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও শরীয়তপুর-১-এর ইকবাল হোসেন অপুকে এলাকায় নিজ দলের শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।

মৌলভীবাজার-২ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের শরিক বিকল্পধারা থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়। এবার জোটের শরিকদের এই আসন ছাড় দেওয়া না হলে নতুন কাউকে প্রার্থী করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ-১-এর জুয়েল আরেং সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর জুয়েল আরেং ওই এলাকা থেকে দলীয় মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। কিন্তু এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক দূরত্ব তৈরি হয়েছে তার। দলের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ফরিদপুর-৩ আসনের খন্দকার মোশাররফ হোসেনও রয়েছেন ঝুঁকির তালিকায়। তালিকায় আরও আছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নূর মোহাম্মদ।

নোয়াখালী-৬-এ আয়েশা ফেরদৌস, ময়মনসিংহ-৩-এ নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ-৭-এ হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী ও ময়মনসিংহ-১১ আসনে কাজীম উদ্দিন আহমেদের বিষয়ে বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আশানুরূপ ভূমিকা পালন করতে না পারার তথ্য দলের হাইকমান্ডের কাছে রয়েছে।

খুলনা-৬-এ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, ঝিনাইদহ-৩-এ শফিকুল আজম খান, ঠাকুরগাঁও-২-এ দবিরুল ইসলাম, নীলফামারী-১-এ আফতাব উদ্দিন সরকার, কুড়িগ্রাম-১-এর আসলাম হোসেন সওদাগরের বিষয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ নানা গ্রুপিং সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে।

নোয়াখালী-৪-এর একরামুল করিম চৌধুরী, জামালপুর-৫-এর মোজাফফর হোসেন, নেত্রকোনা-২ আসনের আশরাফ আলী খান খসরু, গাজীপুর-৩-এর মোহম্মদ ইকবাল হোসেন ও নরসিংদী-১ আসনের নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলের মধ্যে বিভেদ ও গ্রুপিং সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতা ও নানা বিতর্কিত কার্যকলাপের কারণে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মো. সেলিম এবার মনোনয়ন-ঝুঁকিতে রয়েছেন। ঢাকা-১৩-এর এমপি সাদেক খান ও ঢাকা-৫ আসনের কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে সামনে নিজ দলেরই শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। অসুস্থতাজনিত কারণে বাদ পড়তে যাচ্ছেন ঢাকা-১৭ আসনের এমপি আকবর হোসেন পাঠান (চিত্রনায়ক ফারুক)।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের হালহকিকত : বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীও রয়েছেন আগামীতে মনোনয়ন না পাওয়ার ঝুঁকিতে। এর মধ্যে মন্ত্রীদের একজন বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বিভিন্ন সময়ে তার বেফাঁস মন্তব্যের কারণে। তার আচরণে সরকার ও দলকে বারবার বিব্রত হতে হয়েছে। যে কারণে তার এলাকায় আগামী নির্বাচনের জন্য বিকল্প প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকার অদূরে একজন প্রতিমন্ত্রীর নাম এসেছে ঝুঁকির তালিকায়। তার বিরুদ্ধে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে না পারার অভিযোগ রয়েছে।

বয়সজনিত কারণ: সিলেট-৫ আসনের এমপি হাফিজ আহমেদ মজুমদার, নরসিংদী-৫-এর রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু, পটুয়াখালী-১-এর শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৩-এর আতাউর রহমান খান, ময়মনসিংহ-৬-এর মো. মোসলেম উদ্দিন, নেত্রকোণা-৪-এর রেবেকা মোমেন, শেরপুর-৩ আসনের একেএম ফজলুল হক বয়সজনিত কারণে মনোনয়ন তালিকার বাইরে চলে যেতে পারেন। এ ছাড়াও একই কারণে না পাওয়ার তালিকায় নাম উঠতে পারে সিলেট অঞ্চলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতারও।

চাঁদপুর-১-এ ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর বয়স ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মনোনয়ন-ঝুঁকিতে রয়েছেন। চাঁদপুর-২ আসনে এমপি মো. নুরুল আমিন ও কুমিল্লা-২-এর সেলিমা আহাম্মাদকে নিজ দলের মধ্যেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা নিয়মিতভাবেই নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) সাংগঠনিক রিপোর্ট দিয়ে থাকেন। নেত্রী সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেন, পড়েন এবং আমাদের ফিডব্যাক দেন। এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবেদনের বাইরেও তিনি নিজস্ব মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তিনি তার ওপর ভিত্তি করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।’

এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ময়মনসিংহ বিভাগে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীর সংখ্যা কম। তবে যেসব এমপি বা মন্ত্রী এসব কাজে জড়িত ছিলেন, তাদের বিষয়ে আমাদের দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, সাংগঠনিক রিপোর্টেও সেগুলো দেওয়া হয়েছে। (সুত্র: দেশ টিভি নিউজ)

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
আজকের রাজশাহী
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

বিনোদন

- Advertisment -spot_img

বিশেষ প্রতিবেদন

error: Content is protected !!

Discover more from News Rajshahi 24

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading