16.2 C
New York
শনিবার, মে ১৮, ২০২৪
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

পাঁচ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে নতুন বাজেট

অনলাইন ডেস্ক: স্থির এক সময়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের শেষ বাজেটটি দিতে যাচ্ছেন। করোনা মহামারির পর শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট সময়ের সঙ্গে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ধাবিত হচ্ছে আরও সংকটের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ডলার সংকট, বৈশ্বিক মন্দা, নির্বাচনী কৌশল ও ব্যবসা-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে নতুন বাজেট।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তুতির বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের রূপরেখার চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব অগ্রাধিকারের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রাহমাতুল মুনীমকে বাজেটের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কর কাঠামোয় কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। করপোরেট করের হারেও আসতে পারে পরিবর্তন।

যাতে তা ভোগ্যপণ্যের বাজারে এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবার সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়ে। এতে চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর কার্যকর উদ্যোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসছে বাজেটে নির্বাচনী কৌশল, ব্যবসা-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ীই বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া কিছু শর্ত পালন করতে কর কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সফর শেষে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল ৮ মে ঢাকা ছেড়েছে। বাংলাদেশ ছাড়ার আগে তারা সেসব বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়ে গেছেন। সেসবের প্রতিফলনও থাকছে এবারের বাজেটে। ১ জুন যে বাজেটটি ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী, তার বেশির ভাগ পরিকল্পনাই থাকবে নির্বাচনমুখী- এমনটাই মনে করেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। গত বছর জুনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়। তখন করোনা মহামারির রেশ থাকলেও দ্রব্যমূল্য ছিল অনেকটাই সহনীয়। সে সময় ২ কেজি আটার দাম ছিল ৭০-৭৫ টাকা। এখন সেই আটার দাম ১৪০ টাকা। সে সময় মোটা চালের দাম ছিল ৪০ টাকা। এখন ৫০-৫৫ টাকা। চিনি ও আর পিঁয়াজের বাজার তো রীতিমতো বলগাহীনভাবে দৌড়াচ্ছে। ডিম, মাছ, মাংসসহ সবজির দাম তো বেড়েছেই। এ ছাড়া এর মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে একাধিকবার। এতে বেড়েছে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ। এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দেশে খাদ্য, শিল্পসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের বাজারে। এ ছাড়া বাজারে সরকারের তদারকিও কমেছে। সব মিলিয়ে এখন চরম এক অস্থির সময় পার করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এমন অস্থিরতার মধ্যেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জনগণকে স্বস্তির খবর দিতে চায় সরকার, যা ২০২৩-২৪ বাজেটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করেন সরকার-সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে অব্যাহত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, লাগামহীন পরিবহন খরচ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে অনেক গুণ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় যেন পাগলা ঘোড়ার মতোই ছুটছে। এর মধ্যে রেকর্ড করেছে মূল্যস্ফীতি। উৎপাদন ও সরবরাহে তেমন কোনো সংকট না থাকলেও সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থাপনার অভাবে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা করোনা মহামারির ফলে এমনিতেই দেশের মানুষের আয় কমে গেছে। নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বহু মানুষ। এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারে চলছে চরম অস্থিরতা। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নেতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। এমন অস্থির সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টাই করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন তিনি। সারা জুন মাস সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনার রেওয়াজ রয়েছে। তবে এ বছর বাজেট পাস হবে কয়েক দিন আগেই। কেননা সূচি অনুযায়ী কোরবানির ছুটি থাকবে ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন। ফলে ২৬ বা ২৭ জুনের মধ্যেই পাস হবে বাজেট।

এসব অগ্রাধিকারের ভাবনা মাথায় রেখেই আগামী বাজেটের অর্থ বরাদ্দের খাত সাজানো হচ্ছে। যেসব খাতের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সরাসরি ভোটার তুষ্টির বিষয় সম্পৃক্ত, আগামী বাজেটে সেসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় বাড়ানোর ঘোষণা আসছে। একইভাবে সুবিধাভোগীর আওতাও বাড়ানো হচ্ছে। বাজেটের আরও কোন কোন খাতে নজর দিলে ভোটারদের আকৃষ্ট করা যাবে সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে তা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও রূপরেখা থাকছে বাজেটে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৩-২৪ বাজেটে মোটা দাগে কতগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তা হলো বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কেননা দেশে গত কয়েক বছরে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে অনেক বেশি। ভর্তুকির নিরাপদ সংস্থান করতে হবে। বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে হবে। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে স্থিতিশীল শক্তিশালী রিজার্ভ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে হলে সরকারকে এ খাতে অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটাও এই নির্বাচনী বাজেটে সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ জন্য ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে গেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দলও।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
আজকের রাজশাহী
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

বিনোদন

- Advertisment -spot_img

বিশেষ প্রতিবেদন

error: Content is protected !!

Discover more from News Rajshahi 24

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading