8.9 C
New York
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪
spot_img

দূর্ণীতির শীর্ষে সিরাজগঞ্জের জেল সুপার বারেক, বক্তব্য চাওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি

রাজশাহী প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্ণীতিসহ নানা ধরেনের ওভিযোগ ওঠেছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময় কারা অভ্যান্তরে মহিলা ওয়ার্ডে ইচ্ছা মতো যাতায়াত করেন। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে একবার ভিজিট করার কথা। কিন্তু তিনি দিনে দুইবার তিনবারও যান। এছাড়াও সরকারি জমিতে সবজি চাষ করার কথা থাকলেও তিনি সবজির পরিবর্তে আসামীদের দিয়ে ঘাস চাষ করান এবং বিক্রি করেন। কারাগারে হাজতী কয়েদী আসামিদের সাথে খারাপ আচারণ করেন। খাবারে আলু ও পটল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতিদিনই আসামীদের কচু খাওয়াচ্ছেন। কারাগারে জেল কোর্ড অনুযায়ী নিয়ম নাই এবং তিনি মহিলা ওযার্ডে মোটা দড়ি টাঙ্গিয়ে নিজ বাড়ির কাপড়-চোপড় শুকান। বন্দীদের দিয়ে আদা, পিয়াজ, মরিচ ও রসুন মসলা করে নিজ বাড়িতে ও ঢাকার বাড়িতে পাঠান। কারাগারের জেল কোর্ড অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকান্ড অপরাধের মধ্যে পড়ে বলে জানা গেছে। কারা পিসিতে সুপারের তত্ত্বাবধানে ক্যান্টিন পরিচালনা হয়। যেখানে একটি রান্না ডিমের দাম নেয় হয় ৩৫ টাকা। আর দুই পিচ রান্না বয়লার মাংস ও দুই পিচ আলুর দাম নেয়া হয় ৭০ টাকা। যা বন্দীদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে এবং এক ধরনের জুলুম।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি কারাগারে পুরুষ ও মহিলা কারারক্ষীদের প্রতিনিয়ত অন্যায় অবিচার করে থাকেন। তাছাড়াও বিভিন্ন মাদক মামলার মহিলা আসামিদের নাম্বার সংগ্রহ করে তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন।

কারাগারে তিনি একটি গরুর খামার তৈরি করেছেন। সেই খামার তৈরীর প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র করাগারের অভ্যান্তরের বলে জানা গেছে। সেখানে পাঁচটি গরু পোষা হচ্ছে। রহস্যজনক কারনে কারারক্ষী জনৈক সুইি কে খুলনা এবং জেসমিনকে নাটোর জেলে বদলি করা হয়েছে।

জেল সুপারের ব্যক্তিগত কারারক্ষী রিপন (ব্যাচ নং-৩২১৭৯) ক্যান্টিনের বাজার করে। কারারক্ষী কবির (ব্যাচ নং-৩২২১৯) অর্থ শাখা গুদামের দায়িত্বে নিয়োজিত। সেখানেই রয়েছে দূর্ণীতি। কারারক্ষী মামুন (ব্যাচ নং-৩২৮১৮) অফিসে কাজ করে এবং ওকালত নামায় সহি দেওয়ার জন্য আসামীদের স্বজনদের কাছে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে থাকে।

কারারক্ষী রেজিয়াকে (ব্যাচ নং-৩১৬৬৭) দিয়ে অবৈধভাবে নিজ বাড়িতে সাংসারিক কাজ করান সুপার। তিনি আরও বলেন, রিজিয়া দাম্ভিকতা প্রকাশ করে বলে জেল সুপার আমাকে এই জেলে বদলি করে এনেছেন।

অভিযোগ ওঠেছে, নারী-পুরুষ কারারক্ষীরা তার কথা মতো না চল্লে বিভিন্ন অপরাধের অজুহাতে হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ না হলে, শেষে বদলি ও বিভাগীয় মামলা দিয়ে থাকেন জেল সুপার।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে সুবেদার মজিত ও কারারক্ষী নুরুন্নবী মৃত বেল্লালের ছেলে মনিরুল (হাজটি নম্বার ৪০৭৯) নামের এক হাজতিকে কারাগারে ব্যপক নির্যাতন করে। যা কারা আইন অনুযায়ী কোনভাবেই কাম্য নয়।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক নারী কারারক্ষী বলেন, জেল সুপার মোঃ আব্দুল বারেক তাকে একাধিকবার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার সাথে প্রায়ই খারাপ আচারন করেন তিনি।

এ ব্যপারে জানতে জেল সুপারের মুঠো ফোন দিলে তিনি জানান, আপনারা এইসব মনগড়া কথা কোথায় পেলেন। আমার বিরুদ্ধে ভালমতো যাছাই করেন তারপরে নিউজ করেন। নইলে আপনাকে ছাড়ছি না বলে হুমকি দেন এই জেল সুপার মোঃ আব্দুল বারেক।

spot_imgspot_img
রাজশাহী বিভাগ

সর্বশেষ খবর

- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

error: Content is protected !!

Discover more from News Rajshahi 24

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading